২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলা এখন বঙ্গ রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শাণালেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর ভাষণে উঠে এল ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার প্রসঙ্গ এবং বাংলায় তৃণমূল-বিজেপি আঁতাঁত বা ‘বিজেমুল’ সেটিং-এর অভিযোগ।
ওয়াইসির ভাষণের মূল তির্যক মন্তব্যসমূহ:
গুজরাত দাঙ্গা ও মমতার ভূমিকা: ওয়াইসি অভিযোগ করেন, “যখন গুজরাত দাঙ্গায় মানুষ মরছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএ (NDA) সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। তিনি কেন তখন পদত্যাগ করেননি? কেন তিনি তখন চুপ ছিলেন?” তাঁর দাবি, মমতা নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে অতীতেও বিজেপির হাত ধরেছিলেন।
‘বিজেমুল’ সেটিং তত্ত্ব: বাংলায় অধীর চৌধুরী বা শুভেন্দু অধিকারীরা প্রায়শই ‘বিজেমুল’ বা ‘সেটিং’-এর অভিযোগ তোলেন। এবার সেই সুরেই সুর মেলালেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, “বাইরে লড়াই দেখালেও তলায় তলায় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে গভীর সমঝোতা রয়েছে। তৃণমূল আসলে বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করছে।”
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক: মুর্শিদাবাদের বিশাল সংখ্যক মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এতদিন ধরে তৃণমূল আপনাদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু আপনাদের নিরাপত্তার বদলে তারা বিজেপির সাথে সেটিং করতেই বেশি ব্যস্ত।”
সংবিধান ও অধিকার: ওয়াইসি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপিকে আটকানোর ক্ষমতা তৃণমূলের নেই। একমাত্র ‘মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’-ই পারে সাধারণ মানুষের এবং সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের মতো জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যায়, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক সমীকরণ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজেকে বিজেপির একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসেবে দাবি করছেন, ঠিক তখনই ওয়াইসির এই ‘পুরাতন ইতিহাস’ টেনে আনা তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই আক্রমণকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবেই দেখছে। তবে ওয়াইসির এই ভাষণ যে মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী ময়দানকে আরও তপ্ত করে তুলল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।





