ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে আইনি লড়াই চলছিল, তাতে সোমবার কোনও স্পষ্ট সমাধান মিলল না। ট্রাইব্যুনালে যদি কেউ নিজেকে বৈধ ভোটার হিসেবে প্রমাণ করেন, তবে কি তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? এই মর্মে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি ‘আশ্বাস’ বা ‘রক্ষাকবচ’ চেয়েছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালত এ নিয়ে কোনও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ।
আদালতে ঠিক কী ঘটল? বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করা হয় যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁরা যদি ট্রাইব্যুনালে আপিল করে জিতে যান, তবে তাঁদের অবিলম্বে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল:
নির্বাচন প্রক্রিয়ার পবিত্রতা: আদালত মনে করছে, ভোট প্রক্রিয়া একবার শুরু হয়ে গেলে মাঝপথে ভোটার তালিকায় এমন বড়সড় রদবদল করলে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালের গুরুত্ব: আদালত জানিয়েছে, আগে ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। কিন্তু সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেলেই যে এই নির্বাচনেই ভোট দেওয়া যাবে, এমন কোনও আগাম গ্যারান্টি আদালত দেয়নি।
সময়সীমা: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা বা কাটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কিছু কঠোর সময়সীমা থাকে, যা আদালত এখনই লঙ্ঘন করতে চাইছে না।
এবার কী হতে চলেছে? সুপ্রিম কোর্টের এই অনড় অবস্থানের ফলে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের সামনে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। বিশেষজ্ঞদের মতে: ১. যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের এখন একমাত্র ভরসা আপিল ট্রাইব্যুনাল। ২. ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হলেও, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে সময় পেরিয়ে গিয়েছে, তবে তাঁরা ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। ৩. সেক্ষেত্রে তাঁদের পরবর্তী উপ-নির্বাচন বা আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই ‘আশ্বাসহীন’ রায়ে স্বভাবতই উদ্বিগ্ন সেই সমস্ত মানুষ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধীরা একে ‘ভোটাধিকার হরণ’ বলে সরব হলেও, আদালত আপাতত আইনি পদ্ধতির ওপরই ভরসা রাখছে।





