লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার মধ্যেই ভোটাধিকার নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (Deleted Voters), তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকার দেওয়ার আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, নির্বাচনের চাপের কারণে বিচারব্যবস্থা ‘অন্ধ’ হয়ে যেতে পারে না।
কী ছিল আবেদন? ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয় যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তাঁদের দাবি ছিল, নাম বাদ পড়াটা আদতে সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আর্জি খারিজ করে দিয়ে বেশ কিছু কড়া পর্যবেক্ষণ পেশ করে:
প্রক্রিয়াগত জটিলতা: আদালত জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন বা নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে সেই পুরো পরিকাঠামোকে ওলটপালট করা সম্ভব নয়।
অন্ধ হতে পারে না আদালত: শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, নির্বাচনের জেরে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করতে হবে, শুধুমাত্র নির্বাচনের চাপে পড়ে আদালত তার বিচারবোধ হারিয়ে ‘অন্ধ’ হয়ে যেতে পারে না।
কমিশনের এক্তিয়ার: ভোটার তালিকা যাচাই এবং বাদ দেওয়া বা যুক্ত করার বিষয়টি মূলত নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। সেখানে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
পড়ুন আরও: নাম বাদ গেলে এখন উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বা ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ফের নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে, তবে বর্তমান দফায় তাঁদের ব্রাত্যই থাকতে হচ্ছে।
এই রায়ের ফলে এক বড় অংশের মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও, আইনি মহলের মতে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে শীর্ষ আদালত।





