মিসাইল রুখছে আধুনিক প্রযুক্তি, তবুও কেন আজও অপরিহার্য ‘মানুষ গোয়েন্দা’? চমকে দেবে আসল কারণ! ২. AI বনাম হিউম্যান ই

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ থেকে শুরু করে সীমান্ত রক্ষা—সবটাই এখন নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন হামলায় শত্রু শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া কিংবা অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম দিয়ে মাঝ আকাশেই শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা—সবটাই এখন কয়েক সেকেন্ডের কারিশমা। কিন্তু এত কিছুর পরেও কি শেষ হয়ে গিয়েছে ‘মানব গোয়েন্দা’ বা হিউম্যান ইনটেলিজেন্স (HUMINT)-এর যুগ? উত্তরটা হলো—একদমই না।

প্রযুক্তি যেখানে হার মানে: বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি রাডার আপনাকে বলতে পারে আকাশে কী উড়ছে, কিন্তু ওই মিসাইলটি উৎক্ষেপণের পেছনে আসল পরিকল্পনা কী বা শত্রুপক্ষের মনের ভেতরে কী চলছে, তা কোনো মেশিন বলতে পারে না। এখানেই প্রয়োজন পড়ে একজন রক্তমাংসের গোয়েন্দার।

কেন আজও অপরিহার্য মানব গোয়েন্দা?

  • মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: শত্রু দেশের রাষ্ট্রনেতা বা সেনাপ্রধানের মানসিক অবস্থা এবং তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ বুঝতে পারা একমাত্র মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

  • প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: সাইবার হ্যাকিং বা জ্যামিং-এর মাধ্যমে যে কোনও ইলেকট্রনিক সিস্টেমকে অকেজো করা যায়, কিন্তু একজন প্রশিক্ষিত ছদ্মবেশী চরকে ব্লক করা কঠিন।

  • মাঠ পর্যায়ের তথ্য: ড্রোন হয়তো ওপর থেকে ছবি দেবে, কিন্তু কোনো গোপন মিটিং-এ কী কথা হলো বা কোনো ফাইলের ভেতরে কী নথি আছে, তা উদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়দানে নামেন গোয়েন্দারাই।

  • সফট টার্গেট: প্রযুক্তি নির্ভর তথ্য অনেক সময় ভুল হতে পারে, কিন্তু ‘হিউম্যান সোর্স’ থেকে আসা খবরের সত্যতা যাচাই করার সূক্ষ্ম ক্ষমতা আজও অতুলনীয়।

অপারেশন যখন প্রযুক্তি বনাম মস্তিষ্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, প্রযুক্তির চোখ আর মানুষের মস্তিষ্ক যখন হাত মেলায়, তখনই একটি অপারেশন ১০০ শতাংশ সফল হয়। জেমস বন্ড বা শরদিন্দুর ব্যোমকেশ নয়—বাস্তব দুনিয়ার এই নীরব যোদ্ধারা আজও নীরবে বদলে দিচ্ছেন বিশ্বের মানচিত্র।

তাই বলা যায়, রাডার বা মিসাইল ধ্বংসকারী ব্যবস্থা যতই উন্নত হোক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আজও পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী প্রসেসর হলো—’মানুষের মগজ’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy