রাজনীতির ময়দান না কি ফুটবল মাঠ? ২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনের রণকৌশল দেখে এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে শাসক শিবিরের একের পর এক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ‘আক্রমণ’, অন্যদিকে সেই আক্রমণ সামলে নিজেদের বিকল্প মডেল খাড়া করার মরিয়া ‘রক্ষণ’— সব মিলিয়ে বাংলার ভোট যুদ্ধে এখন ফুটবলের আমেজ। তৃণমূলের ইস্তেহার যদি হয় সাম্বা ফুটবলের মতো ‘অল-আউট অ্যাটাক’, তবে বিজেপির পরিকল্পনা যেন ইতালীয় রক্ষণের দেওয়াল।
তৃণমূলের ‘ব্রাজিলিয়ান’ আক্রমণ: বিগত কয়েক বছরে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’— একের পর এক জনমোহিনী প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬-এর ইস্তেহারেও সেই ধারাই বজায় রেখেছে ঘাসফুল শিবির। ঠিক যেন ব্রাজিলের ফুটবলারদের মতো একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ফেলার কৌশল। নগদ সুবিধা এবং সামাজিক সুরক্ষা কবচকে সামনে রেখে মমতার সেনাপতিরা এখন গোল করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।
বিজেপির ‘ইতালীয়’ রক্ষণ ও পালটা চাল: পালটা দিতে ছাড়ছে না গেরুয়া শিবিরও। তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে তারা গড়ে তুলেছে দুর্ভেদ্য রক্ষণ। ইতালির ফুটবল দল যেমন রক্ষণ মজবুত করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেয়, বিজেপিও তেমনই তৃণমূলের প্রকল্পের ত্রুটিগুলো তুলে ধরে মানুষের বিশ্বাস জয়ের চেষ্টা করছে। তাদের ‘মোদী কি গ্যারান্টি’ বা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদতে দিদির আক্রমণকে আটকে দেওয়ারই এক কৌশলী ‘ডিফেন্স’।
ইস্তেহারের জোর টক্কর:
তৃণমূল: জোর দিচ্ছে ধারাবাহিকতায়। উন্নয়নের গতি বাড়িয়ে গোল ধরে রাখা এবং নতুন ভোটারদের মন জয় করা।
বিজেপি: লক্ষ্য হলো বিকল্প কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলের গোল আটকে দেওয়া।
মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কার? ফুটবলে যেমন শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত বলা যায় না জয় কার, বাংলার রাজনীতিতেও পরিস্থিতি ঠিক তেমন। একদিকে মাঠ কাঁপানো ড্রিবলিং আর আক্রমণ, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় রক্ষণ সামলে পালটা অ্যাটাক। বাংলার আমজনতা এখন গ্যালারিতে বসে দেখছেন দুই হেভিওয়েটের এই কৌশল।
ভোটের ফলপ্রকাশের দিনেই বোঝা যাবে, ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুটবল শেষ পর্যন্ত মাঠ দখল করল, নাকি ইতালীয় রক্ষণের কৌশলে বাজিমাত করল বিজেপি। আপাতত ইস্তেহারের এই লড়াই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান— সর্বত্রই সুপারহিট।





