বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারে আজ পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে জনসভা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবাসরীয় এই সভা থেকে একদিকে যেমন তিনি আলুচাষিদের জন্য বড় বার্তা দিলেন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন। সুপর্ণা পরুই-এর রিপোর্টে উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের প্রধান দিকগুলি।
চাকরি ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ
রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যখন বিরোধীরা সরব, তখন খণ্ডঘোষের মাটি থেকে পাল্টা আক্রমণ করলেন মমতা। তাঁর কথায়:
“আমরা চাকরি দিতে চাই, ওরা আটকাচ্ছে”: মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকার হাজার হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও আইনি জটিলতা তৈরি করে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।
কেন্দ্রীয় শূন্যপদ নিয়ে প্রশ্ন: তিনি প্রশ্ন তোলেন, রেল, ব্যাঙ্ক ও ডাকবিভাগে লক্ষ লক্ষ শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কেন কেন্দ্র নতুন নিয়োগ করছে না।
আলুচাষিদের জন্য বিশেষ আশ্বাস
বর্ধমানকে বলা হয় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’। এখানকার আলুচাষিদের মন জয় করতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
সহায়ক মূল্য ও হিমঘর: আলুচাষিরা যাতে সঠিক দাম পান এবং তাঁদের ফসল নষ্ট না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার আরও বেশি হিমঘর ও বিপণন ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প: খণ্ডঘোষের কৃষকদের মনে করিয়ে দেন যে, একমাত্র তৃণমূল সরকারই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে।
উন্নয়নই আসল অস্ত্র
এদিন ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী এবং সবুজ সাথীর মতো প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, উন্নয়নের নিরিখে বাংলা আজ দেশের সেরা। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভোট এলেই বিজেপি বড় বড় কথা বলে, কিন্তু বিপদের সময় তাদের দেখা যায় না।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
খণ্ডঘোষের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার করে দিলেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে কৃষি এবং কর্মসংস্থানই হতে চলেছে তাঁর প্রধান হাতিয়ার। বিশেষ করে গ্রামবাংলার কৃষক ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে তাঁর এই ‘আলুচাষি কার্ড’ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।





