সুরের জাদুকরী আশা ভোঁসলে আজ চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন। তবে তিনি কেবল সুরের ভুবনেই রাজত্ব করেননি, বরং একজন বিচক্ষণ ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারজয়ী এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি তাঁর বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য ও সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
গানের রয়্যালটি থেকে উপচে পড়া আয়
সাত দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে কয়েক হাজার গান গেয়েছেন আশাজি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী এই শিল্পী তাঁর গাওয়া কালজয়ী গানগুলি থেকে আজীবন বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি পেতেন। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব এবং রেডিও— সব জায়গাতেই তাঁর গানের একচেটিয়া দাপট থাকায় প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রয়্যালটি হিসেবে যোগ হতো তাঁর ভাণ্ডারে।
বিদেশে রাজকীয় রেস্তরাঁ ব্যবসা
অনেকেই হয়তো জানেন না, আশা ভোঁসলে একজন সফল উদ্যোক্তাও ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর নিজস্ব চেইন রেস্তরাঁ রয়েছে:
‘আশাস’ (Asha’s): দুবাই, কুয়েত, আবুধাবি, বার্মিংহাম এবং ম্যানচেস্টারের মতো শহরে তাঁর বিলাসবহুল ভারতীয় রেস্তরাঁ অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এই রেস্তরাঁ চেইন থেকে প্রতি বছর তাঁর লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল আকাশছোঁয়া।
বিলাসবহুল জীবন ও মোট সম্পদ
বিভিন্ন সূত্র এবং সাম্প্রতিক আর্থিক সমীক্ষা অনুযায়ী, আশা ভোঁসলের মোট সম্পদের (Net Worth) পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান করা হয়। তাঁর সম্পত্তির তালিকার মধ্যে রয়েছে:
মুম্বইয়ের বাড়ি: দক্ষিণ মুম্বইয়ের প্রভাদেবীতে তাঁর একটি অত্যন্ত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
বিলাসবহুল গাড়ি: তাঁর গ্যারেজে রয়েছে অডি এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো দামি গাড়ির সংগ্রহ।
অন্যান্য বিনিয়োগ: রিয়েল এস্টেট এবং শেয়ার বাজারেও তাঁর বিপুল বিনিয়োগ ছিল বলে জানা যায়।
কার হাতে যাবে এই ঐশ্বর্য?
কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণের পর তাঁর এই বিশাল সম্পত্তি তাঁর উত্তরসূরিদের মধ্যে কীভাবে বন্টিত হবে, তা নিয়ে আইনি মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি শুধু সম্পদ নয়, রেখে গেলেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতীয়দের গর্ব হয়ে থাকবে।





