রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য যেখানে ডিএ-র তৎপরতা চলছে, ঠিক সেখানেই রাজ্যের এক বিশাল অংশের অস্থায়ী কর্মীদের ওপর নেমে এল ঘোর অনিশ্চয়তার ছায়া। সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে আশাকর্মী— মাসের শেষে তাঁদের হাতে বেতন পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। শুধু বেতন নয়, প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়েও এক চরম প্রশাসনিক জটিলতার মুখে দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী।
কেন এই বেতন সংকট?
সৌম্য গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশাসনিক স্তরে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং বরাদ্দ অর্থের টানাটানির কারণে সিভিক ভলান্টিয়ার ও আশাকর্মীদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ থমকে গিয়েছে।
পোর্টাল সমস্যা: বেতন বিতরণের নির্দিষ্ট পোর্টালে তথ্য আপডেটের সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ফান্ড বিভ্রাট: অর্থ দপ্তরের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তহবিলের সমন্বয়ে ঘাটতি থাকায় এই অনিশ্চয়তা।
পিএফ ও ডিএ নিয়েও দুশ্চিন্তা
রাজ্যের যে সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ার ও অস্থায়ী কর্মীরা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের পিএফ-এর টাকা জমা পড়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের দাবি, মাসের পর মাস কেটে গেলেও পিএফ অ্যাকাউন্টে সঠিক আপডেট মিলছে না। অন্যদিকে, বকেয়া ডিএ-র দাবি তো রয়েইছে।
ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা
নিচুতলার এই কর্মীদের বেতন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা ছড়াতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাগুলোতে। আশাকর্মী সংগঠনের এক নেত্রী জানিয়েছেন:
“আমরা দিনরাত এক করে পরিষেবা দিই, অথচ মাসের শেষে বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ডিএ-পিএফ তো দূরের কথা, আগে ডাল-ভাতের সংস্থানটুকু নিশ্চিত করুক সরকার।”
নবান্ন কী বলছে?
যদিও সরকারিভাবে বেতন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়নি। নবান্ন সূত্রের খবর, সমস্যাটি সাময়িক এবং দ্রুত মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। তবে মাসের মাঝপথে এই ধরণের খবরে উৎকণ্ঠা কাটছে না কর্মীদের।
নির্বাচনী আবহে এই বেতন বিভ্রাট বিরোধী দলগুলোর হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিল কি না, এখন সেটাই দেখার।





