বিশ্ব অর্থনীতি কি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে? ইরান ও পশ্চিমি দেশগুলোর মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনার পারদ এবার চরমে পৌঁছাল। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলা কূটনৈতিক ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর, ইরান এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ় প্রণালী’ (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই এক হুমকিতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
ব্যর্থ ২১ ঘণ্টার কূটনীতি
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার সমাধানে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বন্ধ দরজার আড়ালে চলা এই আলোচনায় আশা করা হয়েছিল কোনো রফাসূত্র মিলবে। কিন্তু টানা ২১ ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয় বৈঠকটি। কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণেই এই ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
কেন কাঁপছে বিশ্ববাজার?
হরমুজ় প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের ‘জ্বালানি ধমনী’। পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের এটিই একমাত্র পথ। পরিসংখ্যান বলছে:
বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০% থেকে ৩০% অপরিশোধিত তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বাহিত হয়।
ইরান যদি এই পথটি বন্ধ করে দেয়, তবে মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড গড়তে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো। আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ় প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবে শুধু জ্বালানি নয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।





