লোকসভা ভোটের আবহে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। এবার আদিবাসী সমাজ এবং তাঁদের বৈবাহিক প্রথাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হলো তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলে দেগে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়।
ঠিক কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
সম্প্রতি একটি নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে আদিবাসী সমাজ ও ইউসিসি (UCC) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রথা কেড়ে নেবে। এই প্রসঙ্গেই আদিবাসীদের একাধিক বিয়ের রীতির কথা উল্লেখ করেন তিনি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তথাগত রায়ের পাল্টা তোপ
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে আদিবাসী সমাজের অবমাননা এবং তথ্যগত ভুল হিসেবে তুলে ধরেছেন তথাগত রায়। তিনি কড়া ভাষায় বলেন:
“আদিবাসীদের মধ্যে ৪টি বিয়ের প্রথা আছে— এই ধরণের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্রেফ ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতে গিয়ে একটি বিশেষ জনজাতির সংস্কৃতি নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করছেন মুখ্যমন্ত্রী।”
তথাগত রায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী ভোট নিজেদের দিকে টানতে গিয়ে এমন কিছু দাবি করছেন যার সঙ্গে বাস্তব বা শাস্ত্রীয় কোনো মিল নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, আদিবাসী ভাই-বোনদের বিভ্রান্ত করতেই এই ‘মিথ্যাচার’ করা হচ্ছে।
ভোটের মুখে ‘আদিবাসী’ কার্ড?
রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোট ব্যাংক এবার জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর। গত লোকসভা নির্বাচনে এই আদিবাসী ভোট বড় অংশেই বিজেপির দিকে গিয়েছিল। এবার সেই ভোট ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে, বিজেপিও পাল্টা আদিবাসী ভাবাবেগকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে।
তথাগত রায়ের এই আক্রমণ যে নির্বাচনের আগে আদিবাসী এলাকাগুলোতে প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, বিজেপি নেতার এই সরাসরি ‘মিথ্যাচার’-এর অভিযোগের জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া দেয়।





