বর্তমান যুগে জিম যাওয়া মানেই কেবল শরীরচর্চা নয়, বরং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটি নিখুঁত সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করাটা যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই নিয়মিত জিমের ছবি পোস্ট করার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে এক বিশেষ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
লন্ডনের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁদের মতে, যারা নিয়মিত জিমের ছবি বা নিজেদের ফিটনেসের আপডেট ফেসবুকে দেন, তাঁদের মধ্যে কিছু বিশেষ মানসিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:
১. নার্সিসিজম বা আত্মমুগ্ধতা
গবেষকদের দাবি, যারা অতিরিক্ত জিমের ছবি পোস্ট করেন, তাঁদের মধ্যে ‘নার্সিসিজম’ (Narcissism) বা নিজের প্রতি অতিরিক্ত মুগ্ধতা থাকার প্রবণতা বেশি। এরা অন্যের কাছে নিজেদের আকর্ষণীয় এবং শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে পছন্দ করেন। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য থাকে কত বেশি লাইক বা প্রশংসা পাওয়া গেল, তার ওপর।
২. স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা (Need for Validation)
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের ব্যবহারকারীরা সাধারণত বাহ্যিক স্বীকৃতির ওপর বেশি নির্ভর করেন। জিমের ছবির নিচে যখন বন্ধুরা ‘দারুণ লাগছে’ বা ‘অনুপ্রেরণা’ বলে কমেন্ট করেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ হয়, যা এক ধরণের সাময়িক তৃপ্তি দেয়। এই স্বীকৃতির নেশাই তাঁদের বারবার ছবি পোস্ট করতে প্ররোচিত করে।
৩. আত্মবিশ্বাসের অভাব ও হীনম্মন্যতা
শুনতে অবাক লাগলেও, অনেক সময় ভেতরের কোনো হীনম্মন্যতা ঢাকতেই মানুষ বাইরে নিজেকে ফিট এবং সফল হিসেবে জাহির করে। গবেষকদের মতে, যারা বাস্তবে নিজেদের গুরুত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তাঁরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের ছবি দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস খোঁজার চেষ্টা করেন।
৪. আসক্তি ও মানসিক চাপ
যখন কোনো পোস্ট আশানুরূপ লাইক বা কমেন্ট পায় না, তখন এই ব্যক্তিরা হতাশায় ভোগেন। এই চক্রটি ধীরে ধীরে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।
তবে কি জিমের ছবি দেওয়া ভুল?
গবেষকরা কিন্তু সরাসরি একে ‘পাপ’ বলছেন না। অনেক ক্ষেত্রে জিমের ছবি পোস্ট করা অন্যকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে অনুপ্রাণিতও করে। তবে সমস্যাটি তখনই হয়, যখন ব্যায়াম করার চেয়ে ছবি পোস্ট করা বা মানুষের নজর কাড়াটাই আপনার মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।





