কথায় বলে, “বন্ধুত্বই হলো প্রেমের প্রথম ধাপ।” আর সেই প্রিয় বন্ধুটি যদি জীবনসঙ্গী হয়, তবে তার চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে? কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। মনোবিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেস্ট ফ্রেন্ডকে বিয়ে করার যেমন দারুণ সব সুবিধা রয়েছে, তেমনই কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে দাম্পত্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে বা প্রিয় বন্ধুকে মনের কথা বলার আগে এই দিকগুলো একবার ভেবে দেখা জরুরি:
১. রোমান্স ও নতুনত্বের অভাব
বেস্ট ফ্রেন্ডকে বিয়ে করলে সম্পর্কের মধ্যে যে ‘সারপ্রাইজ’ বা একে অপরকে নতুন করে জানার রোমাঞ্চ থাকে, তা শুরুতেই হারিয়ে যায়। আপনারা একে অপরের হাঁড়ির খবর জানেন, তাই নতুন করে আবিস্কার করার মতো কিছু বাকি থাকে না। অনেক সময় সম্পর্কটি জীবনসঙ্গীর চেয়ে ‘রুমমেট’ বা সাধারণ বন্ধুর মতোই রয়ে যায়, যেখানে প্রেমের গভীরতা ফিকে হতে পারে।
২. ঝগড়া মেটানোর আশ্রয়টি হারানো
সাধারণত প্রেমিকের সাথে ঝগড়া হলে আমরা বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছে গিয়ে মন খুলে বলি বা পরামর্শ নিই। কিন্তু বেস্ট ফ্রেন্ডই যদি স্বামী বা স্ত্রী হয়, তবে ঝগড়ার পর অভিযোগ করার মতো সেই বিশ্বস্ত জায়গাটি আর থাকে না। অর্থাৎ, আপনি একই সাথে আপনার সঙ্গী এবং আপনার সেরা বন্ধু—উভয়কেই সাময়িকভাবে হারান।
৩. ঝগড়ায় পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা
বন্ধুরা একে অপরের দুর্বলতা এবং অতীত সম্পর্কে সবকিছু জানে। বিয়ের পর কোনো বড় বিবাদ হলে রাগের মাথায় সেই পুরোনো গোপন কথা বা দুর্বল জায়গা নিয়ে আক্রমণ করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। যা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্মানকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
৪. সামাজিক গণ্ডি ছোট হয়ে যাওয়া
সাধারণত দুই বন্ধুর বন্ধু সার্কেল বা কমন ফ্রেন্ডস অনেক সময় একই হয়। বিয়ের পর যদি সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তবে তার প্রভাব পুরো বন্ধু মহলের ওপর পড়ে। বন্ধুরাও কার পক্ষ নেবে তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে, যা সামাজিক জীবনে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি করে।
৫. পরিবারের সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা
বেস্ট ফ্রেন্ড মানেই সে আপনার পরিবারের সবার প্রিয়। বিয়ের পর ব্যক্তিগত কোনো সমস্যায় যখন আপনি নিজের পরিবারের সমর্থন চাইবেন, দেখা যাবে আপনার পরিবার আপনার সঙ্গীর (যেহেতু সে আগে থেকেই প্রিয়) পক্ষ নিচ্ছে। এতে নিজের বাড়িতেই অনেক সময় একা বোধ করতে পারেন।





