প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এখন আর শুধু কম্পিউটার নয়, হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য আপনার হাতের স্মার্টফোনটি। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে আমাদের ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে অন্য কারও হাতে। অথচ সামান্য কিছু অস্বাভাবিকতা খেয়াল করলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
আপনার ফোনটি হ্যাক হয়েছে কি না, তা বুঝবেন যে ৫টি লক্ষণ দেখে:
১. ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া
যদি দেখেন আপনার ফোনের ব্যাটারি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবে সতর্ক হোন। ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার চললে তা প্রচুর শক্তি খরচ করে, যা ব্যাটারির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
২. ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়া
ভারী গেম না খেললেও বা চার্জে না থাকা সত্ত্বেও কি ফোন গরম হয়ে থাকছে? হ্যাকিং অ্যাপগুলো ফোনের প্রসেসরকে সারাক্ষণ ব্যবহার করতে থাকে, যার ফলে ডিভাইসটি গরম হয়ে ওঠে।
৩. অকারণ ডেটা খরচ
আপনার অজান্তেই কি ফোনের ইন্টারনেট ডেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে? অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার ফোন থেকে তথ্য চুরি করে তা সার্ভারে পাঠানোর জন্য আপনার ফোনের ডেটা ব্যবহার করে। তাই ডেটা ইউসেজ সেটিংসে গিয়ে কোনো অচেনা অ্যাপ ডেটা খাচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
৪. পপ-আপ বিজ্ঞাপন ও অচেনা অ্যাপ
ফোনের স্ক্রিনে হঠাৎ করে অদ্ভুত সব বিজ্ঞাপন আসা বা অ্যাপ ড্রয়ারে এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পাওয়া যা আপনি কখনোই ইনস্টল করেননি—এগুলো হ্যাকিংয়ের স্পষ্ট লক্ষণ।
৫. পারফরম্যান্স স্লো হয়ে যাওয়া
ফোন বারবার হ্যাং করা, অ্যাপ খুলতে অনেক সময় নেওয়া বা আচমকা রিস্টার্ট হওয়া নির্দেশ করে যে আপনার ডিভাইসে ক্ষতিকর কোনো প্রোগ্রাম চলছে।
ফোন হ্যাক হলে দ্রুত কী করবেন?
ফ্যাক্টরি রিসেট: যদি নিশ্চিত হন যে ফোন হ্যাক হয়েছে, তবে জরুরি তথ্যের ব্যাকআপ নিয়ে ফোনটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ (Factory Reset) দিন।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন: আপনার ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং অ্যাপের পাসওয়ার্ড দ্রুত বদলে ফেলুন।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: নিরাপত্তা বাড়াতে সব অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করুন।
অচেনা অ্যাপ ডিলিট: ফোনের সেটিংস থেকে সন্দেহজনক সব অ্যাপ এখনই আনইনস্টল করুন।





