২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনার পারদ যখন চড়ছে, ঠিক তখনই ফিফা (FIFA) টিকিটের দামে বড়সড় বদল এনেছে। বিশেষ করে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম এখন রীতিমতো চর্চার বিষয়। আপনি যদি গ্যালারিতে বসে ফাইনাল দেখার স্বপ্ন দেখেন, তবে আপনাকে কয়েক লাখ টাকা খরচ করতে হবে।
ফাইনালের টিকিটের দাম কত?
ফিফা তাদের লেটেস্ট টিকিট সেলিং ফেজে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ (Dynamic Pricing) পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর ফলে চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
সর্বোচ্চ দাম: ফাইনালের এক একটি প্রিমিয়াম টিকিটের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০,৯৯০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯ লক্ষ ১৬ হাজার থেকে ১০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা (ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ সহ)।
অন্যান্য বিভাগ: আগে যেখানে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ছিল ৮,৬৮০ ডলার, তা এখন প্রায় ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ক্যাটাগরি-২ টিকিটের দাম বেড়ে হয়েছে ৭,৩৮০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম ৫,৭৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
কেন এই আকাশছোঁয়া দাম?
ফিফার এই ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ মডেলের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। মূলত টিকিটের চাহিদা এবং বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে রিয়েল-টাইমে এই দাম বাড়ানো হয়। সমালোচকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ফুটবল ভক্তরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ হারাবেন। ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য ফিফাকে চিঠি দিয়ে এই দাম নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানিয়েছেন।
অন্যান্য ম্যাচের টিকিটের হাল
শুধু ফাইনাল নয়, উদ্বোধনী এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের দামও বাড়ছে।
উদ্বোধনী ম্যাচ (আমেরিকা বনাম প্যারাগুয়ে): এই ম্যাচের ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের দাম প্রায় ৪,১০৫ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা)।
কানাডার প্রথম ম্যাচ: এই ম্যাচের বিশেষ কিছু টিকিটের দাম ৩,৩৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
সাধারণের জন্য কোনো সুযোগ আছে কি?
ফিফা জানিয়েছে, তারা প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে কিছু সংখ্যক সুলভ মূল্যের টিকিট (প্রায় ৬০ ডলারের আশেপাশে) দেবে, যা মূলত সেই দেশের অনুগত দর্শকদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিশ্বকাপ যেন কেবল কোটিপতিদের খেলার আসর হয়ে উঠছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এখন পকেটের লড়াই শুরু হয়ে গেছে ফুটবল পাগল মানুষদের।





