জামনগরের মাটি থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে এক অনন্য অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছেন রিলায়েন্স কর্ণধার মুকেশ অম্বানীর কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত অম্বানী। তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প ‘ভান্তারা’ (Vantara)-র মুকুটে এবার যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন পালক। এবার বন্যপ্রাণী এবং পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা করলেন তিনি।
পশুচিকিৎসা ও গবেষণায় বিপ্লব
অনন্ত অম্বানী জানিয়েছেন, এটিই হবে বন্যপ্রাণী ও পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য বিশ্বের প্রথম সারির একটি গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি। আধুনিক গবেষণাগার, ক্লিনিক্যাল পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক স্তরের বিশেষজ্ঞদের মেলবন্ধনে এই ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এখানে শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তবের অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হবে।
কী কী থাকছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে?
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বিশ্বের নামী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হবে গবেষণা।
অত্যাধুনিক ক্লিনিক: অসুস্থ বা বিপন্ন পশুদের চিকিৎসার জন্য থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি।
আবাসিক ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, যাতে তাঁরা সরাসরি বন্যপ্রাণীদের সান্নিধ্যে থেকে শিখতে পারেন।
দক্ষ মানবসম্পদ: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পশুচিকিৎসার ক্ষেত্রে উচ্চমানের চিকিৎসক ও গবেষক তৈরি করাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।
অনন্ত অম্বানীর ভিশন
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের প্রতি অনন্ত অম্বানীর ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। জামনগরে ৩০০০ একর জুড়ে বিস্তৃত ‘ভান্তারা’ ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বড় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনন্তের কথায়, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি বিশ্বজনীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সুশিক্ষিত হয়।”
উপসংহার
অম্বানী পরিবারের এই বৈপ্লবিক উদ্যোগ ভারতের উচ্চশিক্ষা এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মানচিত্রকে বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকৃতির সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, ‘ভান্তারা ইউনিভার্সিটি’ হতে চলেছে তারই বড় উদাহরণ।





