বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ‘ডিলিটেড ভোটার’দের নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, “ভোটার তালিকায় থাকা এবং ভোট দেওয়া একটি স্থায়ী সাংবিধানিক অধিকার।” বিশেষ সংশোধন বা SIR-এর জেরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অধিকার চিরতরে মুছে যেতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ আজ জানিয়েছে, নির্বাচনের জন্য একটি ‘কাট-অফ’ তারিখ থাকলেও নাগরিকের ভোটাধিকার অনেক বেশি স্থায়ী বিষয়। নির্বাচন কমিশন গত ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করে দিলেও, যাঁদের আপিল এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী করণীয় তা নিয়ে আগামী ১৩ এপ্রিল চূড়ান্ত শুনানি করবে আদালত।
কী এই SIR বিতর্ক? নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর জেরে বাংলায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২৭ লক্ষ ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অসংগতির কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ বিচারপতি বাগচীর নামের বানানও ভোটার তালিকায় ভুল ছিল বলে খবর সামনে এসেছে!
ডিলিটেড ভোটারদের এখন কী হবে?
আপিল ট্রাইব্যুনাল: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁরা সেখানে আবেদন করতে পারছেন।
১৩ এপ্রিলের শুনানি: কমিশন ৯ এপ্রিল তালিকা ফ্রিজ করে দেওয়ায় ট্রাইব্যুনালে জেতা ভোটাররা এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সোমবার আদালত এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ অধিকার: আদালত সাফ জানিয়েছে, এই নির্বাচনে কোনো কারণে ভোট দিতে না পারলেও, তাঁদের নাম পরবর্তী নির্বাচনের জন্য তালিকায় ফেরানোর সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।
ভোটের মুখে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া এবং আদালতের এই কড়া অবস্থান নির্বাচন কমিশনের ওপর যে বড়সড় চাপ তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





