নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। বেশ কিছু দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে একটি গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছিল— বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে নাকি বাঙালিদের খাদ্যতালিকায় কোপ পড়বে! মাছ, ডিম বা মাংস খাওয়া কি সত্যিই বন্ধ করে দেবে বিজেপি? শুক্রবার বাংলার মাটি থেকেই এই জ্বলন্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গুজব বনাম বাস্তব: এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে শাহ বিরোধীদের প্রচারকে সরাসরি নস্যাৎ করে দেন। তিনি সাফ জানান, “বিজেপি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কে কী খাবেন, তা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।” গেরুয়া শিবির বাংলায় ক্ষমতায় এলে আমিষ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে— এই দাবিকে স্রেফ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ এবং ‘বিরোধীদের রাজনৈতিক অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
বাঙালিয়ানা ও বিজেপির স্ট্যান্ড: শাহ বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং ঐতিহ্যের প্রতি বিজেপির পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, কিন্তু কারুর রান্নাঘরে গিয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না।” মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দোহাই দিয়ে যে আমিষ বর্জনের ভয় দেখানো হচ্ছিল, শাহের এই উত্তরে তাতে জল পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন এই বিতর্ক? তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল যে, হিন্দিবলয়ের সংস্কৃতি বাংলায় চাপিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে নিরামিষাশী আদর্শের প্রচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা চোরা আতঙ্ক কাজ করছিল। শাহ এদিন সেই আশঙ্কা দূর করে বাঙালিদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন।





