লোকসভা ভোটের আবহে সরগরম বাংলা। আর সেই উত্তাপের পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ‘বহিরাগত’ তত্বের পাল্টা জবাব দিতে এবার হাতিয়ার করলেন খোদ বাংলা ভাষাকেই। ঝরঝরে বাংলায় আক্রমণ শানিয়ে স্মৃতি বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার কৃষ্টি ও ভাষার ওপর দখল কেবল শাসকদলের একচেটিয়া অধিকার নয়।
বাংলাতেই বাজিমাত স্মৃতির কলকাতার এক জনসভায় স্মৃতি ইরানি যখন মাইক ধরলেন, উপস্থিত জনতা চমকে যান তাঁর সাবলীল বাংলা শুনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত’ বা ‘পরিযায়ী’ বলে কটাক্ষ করেন। এদিন স্মৃতি তার পাল্টা দিয়ে বলেন, “বাংলার মেয়ে হিসেবে বাংলার মানুষের সেবা করা কি অপরাধ? যারা বাংলাকে নিজের মনে করে, তারা কোনোদিন বহিরাগত হতে পারে না।” তাঁর এই বাংলা বক্তৃতা কার্যত তৃণমূলের তোলা ‘বহিরাগত’ প্রচারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিঁধলেন শাসকদলকে ভাষার লড়াইয়ের পাশাপাশি উন্নয়নের ইস্যু নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন স্মৃতি। তাঁর দাবি, কেন্দ্র টাকা দিলেও রাজ্যে সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। সেই সঙ্গে সন্দেশখালি ইস্যু থেকে শুরু করে দুর্নীতি— একাধিক বিষয়ে নাম না করে বিঁধেছেন ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাংলার ভোটে ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ আবেগ সবসময়ই বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কার্ড খেলে তৃণমূল প্রভূত সাফল্য পেয়েছিল। তবে এবার স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েট নেত্রী যখন বাংলা ভাষাতেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন, তখন সেই পুরোনো তত্ত্ব কতটা ধোপে টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্মৃতি ইরানির এই ‘বাঙালি অবতার’ কি বিজেপিকে ভোটের ময়দানে বাড়তি সুবিধা দেবে? নাকি তৃণমূল তাদের ঘর সামলাতে নতুন কোনো চাল চালবে? উত্তরের অপেক্ষায় বঙ্গবাসী।





