দীর্ঘ ১৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে কারামুক্ত হতে চলেছেন সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট সারদা-কর্তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে এই মুক্তি একেবারেই অবাধ নয়; অত্যন্ত কড়া ও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনেই জেলের বাইরে পা রাখতে পারবেন তিনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও জামিন এদিন বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ কারাবাসের সময়কাল বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৩ সালে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি বন্দি ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলা এবং আইনি জটিলতার কারণে তার জামিনের বিষয়টি ঝুলে ছিল। আদালত জানিয়েছে, যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় হেফাজতে কাটিয়েছেন, তাই শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে।
কড়া শর্তের বেড়াজাল জামিন পেলেও সুদীপ্ত সেনকে আদালতের বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে:
তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।
তদন্তের প্রয়োজনে সিবিআই বা ইডি যখনই ডাকবে, তাকে হাজিরা দিতে হবে।
সাক্ষীদের কোনোভাবে প্রভাবিত করা যাবে না।
নিজের বর্তমান ঠিকানার কোনো পরিবর্তন হলে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে।
সারদা কেলেঙ্কারি ও প্রেক্ষাপট ২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। হাজার হাজার আমানতকারীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে সুদীপ্ত সেনের সংস্থার বিরুদ্ধে। কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারই ছিল তার ঠিকানা। মাঝে বহুবার জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন নতুন বছরের শুরুতেই সুদীপ্ত সেনের এই জেলমুক্তি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সারদা সংক্রান্ত বহু মামলার চার্জশিটে এখনও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। এমতাবস্থায় সুদীপ্ত সেনের জেলের বাইরে আসা তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।





