পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হলো। ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া এবং তার আপিল সংক্রান্ত মামলা নিয়ে আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ফের চাঞ্চল্যকর মোড় এল। প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি উঠল শীর্ষ আদালতে।
সুপ্রিম কোর্টে আজকের বড় আপডেট:
নতুন মামলার শুনানি: আজ ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ইসিআই-এর (ECI) ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া নতুন পিটিশন শুনতে রাজি হয়েছে। আগামী ১৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অধীনে ১৯টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলিই ঠিক করবে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার ফিরবে কি না।
৪৮ ঘণ্টার দাবি: মামলাকারীদের একাংশের দাবি, হাতে সময় খুব কম। তাই আপিল করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত জানায়, সেই আর্জি রাখা হয়েছে। তবে আদালত জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো কাম্য নয়।
কেন দুশ্চিন্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষ? নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ আপত্তির মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৫৪% মানুষ হিন্দু এবং ৩৪% মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে গেলে যারা বাদ পড়লেন, তারা কি আদৌ ভোট দিতে পারবেন? এই প্রশ্নই এখন বাংলার ঘরে ঘরে দানা বাঁধছে।
তৃণমূল বনাম বিজেপি তরজা: রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল ও শ্যাম দিভান সওয়াল করেন যে, ট্রাইব্যুনালগুলো এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি, ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি ও কেন্দ্রের দাবি, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছভাবেই এই তালিকা সংশোধন করেছে এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ।
উপসংহার: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় ভোট। তার আগে ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে কয়েক লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। ট্রাইব্যুনালের রায় যদি তাদের পক্ষে না যায়, তবে ২০২৬-এর লড়াইয়ে এক বিশাল সংখ্যক মানুষের কণ্ঠস্বর হারাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সব পক্ষই।





