২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের, বিশেষ করে মহিলাদের মন জয়ে তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আর্থিক সহায়তা প্রকল্প’। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’—এই দুই প্রকল্পের দ্বৈরথ এখন গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় না ফিরলে মে মাস থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এমন কোনও ঘোষণা হয়নি। বর্তমানে এই প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতির (SC/ST) মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের জন্য এই টাকা এখন অন্যতম প্রধান সহায়।
পাল্টা চালে আসরে নেমেছে বিজেপি। তাদের প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হবে না, বরং নাম বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ করা হবে এবং সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হবে মাসিক ৩,০০০ টাকা। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই মোটা টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শক্তি, কিন্তু বিজেপির দ্বিগুণ টাকার প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মনে দোলা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাংলার লক্ষ্মীরা কার দিকে পাল্লা ঝোঁকান, সেটাই এখন দেখার।





