মমতার প্রচারে আসুক নিষেধাজ্ঞা! কমিশনে দৌড় বিজেপির, কোন মন্তব্যে ‘ব্যান’ হওয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রী?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এবার আকাশছোঁয়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো ভারতীয় জনতা পার্টি। কেবল অভিযোগ জানানোই নয়, তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় FIR দায়ের করার আবেদন নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপির মূল অভিযোগ কী?

বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) সরাসরি লঙ্ঘন করে। গেরুয়া শিবিরের দাবি:

  • উস্কানিমূলক মন্তব্য: মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় মেরুকরণ এবং উস্কানিমূলক কথা বলে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

  • কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ: জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য জওয়ানদের মনোবল ভাঙছে এবং সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে।

  • বিদ্বেষ ছড়ানো: বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কুরুচিকর এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন তিনি।

কমিশনে বিজেপির প্রতিনিধি দল

বিজেপির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কমিশনের দপ্তরে গিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি অবিলম্বে প্রচার থেকে ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব নয়। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আমরা আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”

তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার

বিজেপির এই পদক্ষেপকে স্রেফ ‘ভয় পাওয়ার রাজনীতি’ হিসেবে দেখছে তৃণমূল শিবির। জোড়ফুল শিবিরের দাবি, হার নিশ্চিত জেনে এখন মমতাকে আটকানোর ফন্দি আঁটছে বিজেপি। ডেরেক ও’ব্রায়েন থেকে শুরু করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো নেতারা সরব হয়ে জানিয়েছেন, কোনো বাধা দিয়েই মমতার জনজোয়ার থামানো যাবে না।

নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কি না, বা তাঁর প্রচারে কোনো সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় কি না—সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের। ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায় নজর রাখুন পরবর্তী খবরের জন্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy