এক ভয়াবহ যুদ্ধের দোরগোড়া থেকে শেষ মুহূর্তে পিছু হটল আমেরিকা ও ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দুই পক্ষই আপাতত দু-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে আমেরিকাকে ১০টি কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া—”এগুলো আলোচনার যোগ্য ভিত্তি হতে পারে।”
সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির পর উত্তেজনার পারদ চরমে উঠেছিল। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান শর্ত না মানলে “একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” কিন্তু পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি হয়েছে দুই দেশ।
ইরানের দেওয়া সেই ১০টি প্রধান শর্তের মধ্যে রয়েছে:
হরমুজ প্রণালী: দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তা ইরানীয় সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সেনা প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর থাকা সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
ক্ষতিপূরণ: গত কয়েক দিনের সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সম্পত্তি মুক্তি: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি এই শর্তগুলো খতিয়ে দেখেছেন এবং আগামী ১৪ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিবুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, “ইরানে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে না” এবং পরমাণু পরিকাঠামো নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
আপাতত এই যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং বিশ্ব শেয়ার বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই দুই সপ্তাহের অস্থায়ী শান্তি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পরিণত হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।





