২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে ঘি ঢাললেন বলিউডের ‘কুইন’ তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। রাজ্যে পা রেখেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করলেন, তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে, তাই হারের ভয়ে তারা এখন থেকেই ইভিএম (EVM)-এর ওপর দোষ চাপাতে শুরু করেছে।
নিশানায় মমতা, হাতিয়ার ইভিএম: এদিন বঙ্গ বিজেপির হয়ে প্রচারে এসে কঙ্গনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যখনই বিরোধীরা বুঝতে পারে যে তারা জনগণের সমর্থন হারিয়েছে, তখনই তারা কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কঙ্গনার কথায়—
“মমতাজিরা জানেন বাংলায় এবার বিজেপির জয় নিশ্চিত। তাই আগেভাগেই পরাজয়ের অজুহাত তৈরি করছেন তারা। হারলেই বলবেন ইভিএম হ্যাক হয়েছে, কিন্তু আসলে সাধারণ মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।”
কালীঘাটে পুজো দিয়ে হুঙ্কার: এদিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন কঙ্গনা। তিনি দাবি করেন, বাংলার মহিলারা এবং সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের জন্য ছটফট করছেন। গত নির্বাচনে যে ‘রক্তের গঙ্গা’ বয়েছিল, এবার তার বদলা ভোটবাক্সেই হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: কঙ্গনার এই মন্তব্যের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের সাথে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে। শাসক দলের পাল্টা দাবি, কঙ্গনা রানাউত বাংলার মাটি চেনেন না, তাই ভিন রাজ্য থেকে এসে ভিত্তিহীন কথা বলছেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গনার মতো ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেত্রীকে প্রচারে এনে বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এবার লড়াই হবে ইঞ্চি ইঞ্চি মাপে।
একনজরে হাইলাইটস:
অজুহাতের রাজনীতি: হারের ভয়ে তৃণমূল ইভিএম-কে দোষ দিচ্ছে বলে দাবি কঙ্গনার।
পরিবর্তনের ডাক: বাংলার নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে সরব বিজেপি সাংসদ।
২০২৬-এর লক্ষ্য: মমতা বনাম মোদী লড়াইয়ে কঙ্গনার এন্ট্রি প্রচারের উত্তাপ বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ।
বিজেপির এই তারকা প্রচারকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম উত্তর থেকে দক্ষিণ। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্স (বা ইভিএম) কার কথা বলবে, সেটাই এখন দেখার।





