২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার পর রাজ্য থেকে একধাক্কায় বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম! এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছকই যান্ত্রিক পরিমার্জন নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গভীর সমীকরণ?
কমিশনের তথ্যে চাঞ্চল্য: নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে ঠিকানা পরিবর্তন করা ব্যক্তি এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম থাকার (ডবল এন্ট্রি) কারণেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতেই এই কঠোর পরিমার্জন। তবে ৯১ লক্ষ—এই বিশাল সংখ্যাটি অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন এত নাম বাদ? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাদ পড়া নামের তালিকায় রয়েছে:
মৃত ভোটার: লক্ষ লক্ষ নাম এমন ছিল যারা দীর্ঘকাল আগে মারা গিয়েছেন কিন্তু তালিকায় থেকে গিয়েছিল।
ভুল তথ্য: নথিপত্রে গরমিল থাকা বা ভুয়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
একই নাম একাধিক জায়গায়: ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রি (DSE) সফটওয়্যারের মাধ্যমে শনাক্ত করে ডবল নামগুলি ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
রাজনীতিতে ঝড়: এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই তৃণমূল-বিজেপি তরজা তুঙ্গে। একদিকে বিরোধীদের দাবি, বহু প্রকৃত ভোটারের নামও তালিকায় বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের একাংশ মনে করছে, বিশেষ কোনো এলাকাকে টার্গেট করে এই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সাধারণ মানুষের মনেও দানা বাঁধছে আতঙ্ক—”আগামী ভোটে আমি কি আঙুলে কালি লাগাতে পারব?”
আপনার নাম তালিকায় আছে তো? এত বড় রদবদলের পর আপনার নাম বা পরিবারের কারোর নাম বাদ গেল কি না, তা দ্রুত যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এখনই ভিজিট করুন ভোটার পোর্টালে অথবা স্থানীয় বিএলও (BLO) অফিসে গিয়ে ফাইনাল লিস্ট চেক করুন।





