ভারতের বিমান পরিষেবা জগতে চাঞ্চল্য! টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাম্পবেল উইলসন নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২২ সালে যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন তাঁর সাথে ২০২৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত পাঁচ বছরের একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রায় ১৫ মাস আগেই সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।
টাটাদের মেগা ট্রান্সফরমেশনের ‘মাঝি’ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সহযোগী সংস্থা ‘স্কুট’-এর প্রাক্তন প্রধান ক্যাম্পবেল উইলসনকে যখন এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তাঁর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল লস-মেকিং সরকারি বিমান সংস্থাকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাওয়া। তাঁর নেতৃত্বেই এয়ার ইন্ডিয়া এবং ভিস্তারা-র সংযুক্তিকরণ (Merger) প্রক্রিয়া গতি পায় এবং কয়েকশো নতুন বিমানের ঐতিহাসিক অর্ডার দেওয়া হয়।
কেন এই অকাল বিদায়? উইলসন কেন নির্ধারিত সময়ের আগে ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংস্থার তরফে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে:
ব্যক্তিগত কারণ: শোনা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারছেন না।
সাফল্য ও সমালোচনা: তাঁর সময়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড ইমেজ অনেক উন্নত হলেও, উড়ান বিভ্রাট এবং ক্যাবিন সার্ভিসের মান নিয়ে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সংস্থাকে।
পরবর্তী অধ্যায় কী? ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় থাকলেও, ক্যাম্পবেলের এই হঠাৎ প্রস্থানে এয়ার ইন্ডিয়ার ভোলবদলের (Transformation) কাজ কিছুটা ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, টাটা গোষ্ঠী কি আবার কোনো বিদেশি বিশেষজ্ঞকে এই চেয়ারে বসাবে, নাকি ভারতীয় কোনো অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হবে?
এক নজরে ক্যাম্পবেল উইলসনের সফর:
নিযুক্তি: মে ২০২২ (৫ বছরের চুক্তি)
মূল অবদান: এয়ার ইন্ডিয়ার আধুনিকীকরণ এবং ভিস্তারা মার্জার।
বিদায়: নির্ধারিত মেয়াদের আগেই (২০২৬-এর মাঝামাঝি)।





