২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কোনো পক্ষই। বিশেষ করে পুরুলিয়ার বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবার পাখির চোখ বিজেপির। আর সেই লক্ষ্যেই এবার প্রচারে একেবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতো। ভোটের লড়াইয়ে জেতার জন্য তিনি শুধু জনসভা বা মিছিলেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না, পৌঁছে গেলেন একেবারে শ্রমজীবী মানুষের খুব কাছে।
হঠাৎ কেন সাইকেল রিপেয়ারিং দোকানে? এদিন নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন বলরামপুর এলাকার একটি স্থানীয় সাইকেল সারাইয়ের দোকানে ঢুকে পড়েন জলধর বাবু। কোনো দ্বিধা না করেই বসে পড়েন কারিগরদের পাশে। রীতিমতো দক্ষ হাতে সাইকেলের চাকা সারাতে দেখা যায় তাঁকে। এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। মুহুর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায় দোকানের সামনে।
সাধারণের সঙ্গে মিলেমিশে যাওয়ার কৌশল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বলরামপুরের মতো এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। সেখানে নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরা এবং ভোটারদের সঙ্গে একাত্ম হওয়াই প্রার্থীর মূল কৌশল। জলধর মাহাতোর কথায়:
“আমিও সাধারণ ঘরের সন্তান। মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি বুঝি। সাইকেল সারানো হোক বা চাষবাস—আমি মানুষের সঙ্গে থেকেই তাঁদের সেবা করতে চাই। মোদীজির উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
বলরামপুরের লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ গত কয়েক বছরে বলরামপুরে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গিয়েছে। স্থানীয় ইস্যু এবং আদিবাসী আবেগ এই কেন্দ্রের বড় ফ্যাক্টর। এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থীর এই ‘সাইকেল রিপেয়ারিং’ স্টান্ট যে নিছক প্রচার নয়, বরং ভোটারদের মন জয়ের একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা বলাই বাহুল্য।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধেই জলধর মাহাতোর এই কাজের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘ভোটের নাটক’ বললেও, আমজনতার একাংশ কিন্তু প্রার্থীর এই সহজ-সরল মেজাজকে বেশ পছন্দ করছেন। এখন দেখার, সাইকেলের চাকা সারানোর মতো বলরামপুরের নির্বাচনী বৈতরণী তিনি কতটা মসৃণভাবে পার করতে পারেন।





