ভোটের মুখে ফের তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতি। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ‘ঘরওয়াপসি’ হলো বসিরহাটের দাপুটে নেতা বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজির। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা সোমবার জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিনের হাত ধরে ফের তৃণমূলে ফিরে এলেন।
২০২০ সালে ‘মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো’র অভিযোগ তুলে তৃণমূল ছেড়েছিলেন পেশায় শিক্ষক বাবু মাস্টার। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মিনাখাঁয় তাঁর গাড়িতে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় মুড়ে থাকা বাবুকে বিজেপির মিছিলে নিয়মিত দেখা গেলেও, গত কয়েক বছর ধরে তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। কাল তৃণমূলে ফেরার পর তিনি দাবি করেন, “বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিন তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।”
তবে শুধু বাবু মাস্টারের প্রত্যাবর্তন নয়, এদিন রাজনৈতিক দলবদলের একাধিক নাটকীয় মোড় দেখা গেল। একদিকে যেমন নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা অর্জুন সিংয়ের ভগ্নীপতি সুনীল সিং এবং হালিশহরের প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজু সাহানি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন, অন্যদিকে বিজেপি থেকে আসা পবিত্র করকে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করে বড় চমক দিল তৃণমূল। একইসঙ্গে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পালকেও তুফানগঞ্জ থেকে প্রার্থী করেছে শাসকদল। ভোটের আগে এই দলবদলের খেলা যে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমীকরণ বদলে দেবে, তা স্পষ্ট।





