২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার জাতীয় নিরাপত্তা ও পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদীয়ার বেথুয়াডহরিতে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যখন প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে কলকাতাকে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছেন, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব? রবিবারের কোচবিহারের সভা থেকে মোদী কেন এই বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না, তা নিয়ে তোপ দাগেন তিনি।
আক্রমণের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছিলেন যে, ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে তারা কলকাতাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে। এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেন:
“আপনি (প্রধানমন্ত্রী) ভোটের সময় বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলছেন, কিন্তু পাকিস্তান যখন আমাদের কলকাতাকে টার্গেট করার কথা বলে, তখন আপনার মুখ খোলে না কেন?”
“আমরা কোনো দেশকে শত্রু মনে করি না, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব আর বাংলার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেললে ছেড়ে কথা বলা হবে না।”
সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি আপনি বাংলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে আপনার পদত্যাগ করা উচিত।”
৫৬ ইঞ্চি ছাতির কটাক্ষ: তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে অথচ বহিঃশত্রুর হুমকির মুখে তাদের তথাকথিত ‘শক্তিশালী ভারত’ নীরব থাকছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “কোথায় গেল সেই ৫৬ ইঞ্চি ছাতি? কেন বলা হলো না যে আমরা পাকিস্তানের এই হুমকির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেব?” একই সুরে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতার এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতাকে বিঁধেছেন।
রাজনৈতিক মেরুকরণ: ২০২৬-এর ভোটের আগে মালদহ বা কোচবিহারের মতো জায়গাগুলোতে যখন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপি তৃণমূলকে আক্রমণ করছে, তখন ‘পাকিস্তান ও কলকাতা’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে পাল্টা জাতীয়তাবাদের কার্ড খেলল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার এই আক্রমণ যে দিল্লির শাসক শিবিরের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর, তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার প্রথম দফার ভোট শুরু হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘পাকিস্তান বাণ’ রাজ্যের নির্বাচনী ময়দানে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই আক্রমণের পালটা কী জবাব দেয়।





