২০২৬-এর কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ‘ঈশ্বরের আপন দেশে’ পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম সরকার কি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসবে, নাকি দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে এবার রাজ্যে কামব্যাক করবে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)? নির্বাচনের ঠিক আগে CNN-News18-এর সাম্প্রতিক ওপিনিয়ন পোল বা জনমত সমীক্ষা সামনে আসতেই দক্ষিণের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
সমীক্ষায় কীসের ইঙ্গিত? দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কেরালা একটি নির্দিষ্ট ধারায় চলেছিল— প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার পরিবর্তন। কিন্তু ২০২১ সালে সেই ধারা ভেঙে ইতিহাস গড়েছিলেন বামপন্থীরা (LDF)। তবে ২০২৬-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সমীক্ষার তথ্য বলছে এক ভিন্ন কথা:
কংগ্রেসের উত্থান: সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির প্রশ্নে শাসক শিবিরের ওপর আমজনতার এক বড় অংশ ক্ষুব্ধ।
বামেদের ভোটব্যাঙ্কে থাবা: বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকায় বামেদের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার পূর্বাভাস দিয়েছে এই জনমত সমীক্ষা।
বিজেপির অবস্থান: কেরলে নিজেদের মাটি শক্ত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবিরও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে, যা ত্রিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
শোরগোলের নেপথ্যে কারণ: সিএনএন-নিউজ ১৮-এর এই সমীক্ষা বলছে, শিক্ষিত কেরলি ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন আনার মানসিকতা প্রবল। পিনারাই বিজয়ন সরকারের দ্বিতীয় দফার বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক জটিলতা কংগ্রেসের পালে নতুন করে হাওয়া দিচ্ছে। সমীক্ষার ফল বলছে, আসন সংখ্যার বিচারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: সমীক্ষার ফল সামনে আসতেই আসরে নেমেছে দুই পক্ষই। কংগ্রেস শিবির যখন একে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বলে দাবি করছে, তখন বাম নেতৃত্বের দাবি— “সমীক্ষা দিয়ে আসল জনমত বিচার করা যায় না। মানুষ উন্নয়নের নিরিখে আবার লাল পতাকাকেই বেছে নেবে।”
কেরালার রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন উত্তপ্ত। এই সমীক্ষাই শেষ কথা কি না, তা জানা যাবে ভোটের ফলাফলে। তবে আপাতত জনমত সমীক্ষার এই রিপোর্ট যে কংগ্রেস কর্মীদের মনে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





