২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। এবার নিজের খাসতালুক ভবানীপুর থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর ও ‘ভয়ংকর’ অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিন জনসমাগম দেখাতে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে এনেছিলেন শুভেন্দু।
মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ: সোমবার বিকেলের এক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন:
“ভবানীপুরের ঘরের ছেলেমেয়েরা আমাদের সঙ্গে আছে। কিন্তু ওনারা (শুভেন্দু অধিকারী) মনোনয়ন জমা দিতে আসার সময় ৫০০ টাকা করে দিয়ে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছিলেন। ভাড়ায় লোক এনে ভিড় বাড়িয়ে কি জেতা যায়?”
মমতার দাবি, ভবানীপুরের স্থানীয় মানুষের সমর্থন না পেয়ে বিরোধীরা এখন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে টাকা দিয়ে লোক আনিয়ে শক্তিবৃদ্ধির মিথ্যে নাটক করছে।
শুভেন্দুর পাল্টা চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও বিরোধী দলনেতার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিজেপি শিবির থেকে জানানো হয়েছে, মমতার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলেই তিনি এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তুলছেন। শুভেন্দু অনুগামীদের দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়, আর সেই স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় দেখেই ভয় পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
ভবানীপুর: হাই-ভোল্টেজ লড়াই: ২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে। গত উপ-নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বড় ব্যবধানে জিতলেও, এবার শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয়তা এবং মমতার এই ‘৫০০ টাকার তত্ত্ব’ লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই ‘ভাড়াটে ভিড়’-এর অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।
নির্বাচনী আবহে উত্তেজনা: মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে উঠেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উন্নয়নের খতিয়ান ও ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব নিয়ে সরব, অন্যদিকে বিজেপি মেরুকরণ ও দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে এগোচ্ছে। ৫০০ টাকা দিয়ে লোক আনার এই দাবি নির্বাচনী ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





