পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন! ৩১ মে পর্যন্ত সব বিমান বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। সোমবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত নয়া দিল্লি থেকে পশ্চিম এশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু রুটে সমস্ত উড়ান স্থগিত রাখা হচ্ছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে চলা সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলের আকাশপথ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্কতা জারি করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা সবার আগে। বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিমান চালানো নিরাপদ নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত।”

প্রভাবিত রুট ও যাত্রীদের করণীয়: প্রাথমিকভাবে দিল্লি থেকে তেল আভিভ এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গন্তব্যের বিমান বাতিল করা হয়েছে।

  • রিফান্ড ও রিশিডিউলিং: যে সমস্ত যাত্রী ৩১ মে পর্যন্ত টিকিট বুক করেছিলেন, তারা কোনো অতিরিক্ত মাশুল ছাড়াই টিকিট বাতিলের পূর্ণ অর্থ (Full Refund) ফেরত পাবেন। অথবা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে বিমান রিশিডিউল করার সুযোগ দেওয়া হবে।

  • বিকল্প রুট: যুদ্ধকবলিত আকাশপথ এড়াতে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ভিস্তারা তাদের ইউরোপগামী বিমানের পথ পরিবর্তন করেছে। এর ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা বেশি সময় লাগতে পারে।

উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল: শুধুমাত্র ভারত নয়, জার্মানির লুফথানসা এবং দুবাইয়ের এমিরেটসও পশ্চিম এশিয়ায় তাদের বিমান চলাচল সীমিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিমানের জ্বালানির দাম বাড়লে আগামীতে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়ায় বড়সড় বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

আপাতত মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগেভাগেই উড়ান শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy