বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর পৌত্রের নাম ভোটার তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ যাওয়া নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কোনো আগাম নোটিশ বা যথাযথ কারণ ছাড়াই তালিকা থেকে তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা নির্বাচন কমিশনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ:
কমিশনকে ভর্ৎসনা: আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, একজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের পরিবারের সদস্যের নাম যদি এভাবে বাদ যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এটি কেবল একটি নাম বাদ যাওয়া নয়, বরং প্রশাসনিক গাফিলতির চরম নিদর্শন।
নাম ফেরানোর নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে নন্দলাল বসুর পৌত্রের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
রিপোর্ট তলব: কেন এবং কার নির্দেশে এই নাম বাদ গিয়েছিল, তা নিয়ে আগামী শুনানিতে কমিশনকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কেন এই বিতর্ক? নির্বাচনের মুখে যখন ‘অ্যাডজুডিকেশন’ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যে চাপানউতোর চলছে, ঠিক সেই সময় শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই পরিবারের নাম বাদ পড়া রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদের দাবি, বেছে বেছে বিশেষ কিছু মানুষের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশন এটিকে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
আইনি প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া মনোভাবের ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ বা তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফিরে পাওয়ার আশা উজ্জ্বল হলো। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়।





