এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ঐতিহাসিক মোড় সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার শুনানির শুরুতেই বড় আপডেট দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আদালত সূত্রে খবর, অ্যাডজুডিকেশন বা বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষের মুখে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার নামের যাচাই পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। মালদার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবল চাপের মধ্যেও কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।
তিন বিচারপতির নজরদারি কমিটি:
ট্রাইব্যুনাল কীভাবে কাজ করবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি নির্দেশ দেন, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিই ঠিক করবে ট্রাইব্যুনালের কার্যপদ্ধতি বা প্রসিডিওর। লক্ষ্য একটাই— দ্রুততা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
ভোটের আগে কি নাম উঠবে?
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এবং মেনকা গুরুস্বামী আদালতে আবেদন জানান, ৪৫ শতাংশ আবেদনকারীর নাম বাদ যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আর্জি ছিল, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ করে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হোক। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি সাফ জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হতে অন্তত এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের আগেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম ওঠা নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
নথি নিয়ে কড়া প্রশ্ন আদালতের:
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচি জন্ম শংসাপত্রের সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:
“১৯৯০-১৯৯৫ সালে জন্ম হওয়া ব্যক্তিদের যদি ২০২৪-২৫ সালে গণহারে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়, তবে তা সন্দেহজনক মনে হওয়াই স্বাভাবিক।”
আদালতের বিশেষ নির্দেশিকা:
অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও দ্রুত ‘রিসিট’ বা রসিদ দিতে হবে নোডাল অফিসারদের।
ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের অনারারিয়াম দ্রুত মেটানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের কেন বাদ দেওয়া হলো তার সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার এবং নথির সত্যতা— এই দুইয়ের ভারসাম্যে ট্রাইব্যুনালের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





