“SIR-এর গেরোয় কি তবে ভাঙছে তৃণমূলের দুর্গ? মালদহে দাঁড়িয়ে আশঙ্কার সুর খোদ দলনেত্রীর গলায়!”

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মালদহে। শনিবার মানিকচকের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হলেন, তখন যে দৃশ্য দেখা গেল তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

এক প্রশ্নেই উঠল হাজারো হাত মানিকচকের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, “যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা একটু হাত তোলেন তো?” মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশ্নের পরই দেখা যায়, সভার অর্ধেকের বেশি মানুষ— বিশেষ করে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ একযোগে হাত তোলেন। এই বিপুল সংখ্যা দেখে খোদ মুখ্যমন্ত্রীও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এটি চক্রান্ত করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র।

সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে কি ফাটল? মালদহ ও মুর্শিদাবাদ তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু SIR প্রক্রিয়ায় প্রচুর সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার ফলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্তার ঘটনা এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় এই ওলটপালটের ফলে কি তৃণমূলের চিরাচরিত ভোটব্যাংকে ধস নামবে?

বিরোধীদের দায়ী করলেন মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর ভাষণে এনআইএ (NIA) এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বিজেপি, কংগ্রেস এবং আইএসএফ একযোগে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার খেলায় মেতেছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা যেন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন।

মালদহে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন। এই উত্তপ্ত আবহে মানিকচকের ‘হাজারো হাত’ তৃণমূলের জন্য কতটা উদ্বেগের কারণ হয়, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy