২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপির এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, এবারের নির্বাচনে দুই মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
দুই মেদিনীপুরে গেরুয়া ঝড়ের পূর্বাভাস
দাঁতনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে মোট ৩৫টি আসনের মধ্যে ৩০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করবে বিজেপি। তিনি স্পষ্ট জানান, মেদিনীপুরের মাটি এবার তৃণমূলমুক্ত হতে চলেছে। শুধু মেদিনীপুরই নয়, ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি নিশ্চিতভাবে পরাজিত করবেন বলে এদিন হুঙ্কার দেন।
ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআর নিয়ে তোপ
এদিন ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী ভোটার তালিকা এবং সরকারি প্রকল্পে নাম বাদ পড়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন:
“২০ লক্ষ মানুষের নাম বিকেলের চায়ের আড্ডায় বসে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া এই সরকারকে মানুষ এবার যোগ্য জবাব দেবে।”
মালদা হিংসা ও তৃণমূলের যোগসাজশ
মালদার সাম্প্রতিক হিংসা নিয়েও এদিন সুর চড়ান বিরোধী দলনেতা। তার দাবি, এই হিংসা কাকতালীয় নয়, বরং “কলকাতায় বসে তৃণমূলই এই ষড়যন্ত্র সংগঠিত করেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু আদালত ও জনতা—উভয় ক্ষেত্রেই সত্য প্রকাশিত হবে।
একনজরে শুভেন্দুর সভার প্রধান ৫ পয়েন্ট:
আসন লক্ষ্যমাত্রা: দুই মেদিনীপুরে ৩৫টি আসনের মধ্যে ৩০+ আসনে জয়ের দাবি।
মমতাকে চ্যালেঞ্জ: ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর আগাম ঘোষণা।
দুর্নীতির অভিযোগ: ভোটার তালিকা ও প্রকল্প থেকে ২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ।
আইন-শৃঙ্খলা: মালদা হিংসার পিছনে শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতের অভিযোগ।
কর্মীদের বার্তা: ভয় না পেয়ে বুথ স্তরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘আগুনে’ ভাষণ রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবিকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করলেও, মেদিনীপুরের গড়ে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাস কপালে ভাঁজ ফেলেছে শাসক শিবিরের।





