সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে মাসে ২২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে কোটি টাকার তহবিল গড়া কি আদেও সম্ভব? আপাতদৃষ্টিতে এটিকে আকাশকুসুম কল্পনা মনে হলেও, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপার্টরা বলছেন এটি সম্পূর্ণ বাস্তব। সঠিক সময়ে বিনিয়োগ এবং ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’-এর জাদু ব্যবহার করে আপনিও অনায়াসেই ৪ থেকে ৮ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে এই ফর্মুলা?
কোটিপতি হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ১৫-১৫-১৫ (15-15-15) নিয়ম। যদি কোনো ব্যক্তি ২৫ বছর বয়স থেকে বিনিয়োগ শুরু করেন এবং প্রতি মাসে তার আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ মিউচুয়াল ফান্ড বা এসআইপি (SIP)-তে জমা করেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল অঙ্কের রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
লক্ষ্য যখন ৪ কোটি টাকা:
যদি আপনার বেতন ২২ হাজার টাকা হয় এবং আপনি সেখান থেকে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন, তবে বার্ষিক ১২% থেকে ১৫% রিটার্ন হিসেবে ৩০ বছর পর আপনার জমানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি টাকার কাছাকাছি।
লক্ষ্য যখন ৮ কোটি টাকা:
আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ যদি প্রতি বছর মাত্র ১০% হারে বৃদ্ধি করেন (Step-up SIP), তবে সেই একই সময়সীমার মধ্যে আপনার তহবিল ৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রাসঙ্গিক তথ্য: মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে গড়ে ১২-১৫% রিটার্ন পাওয়া যায়, যা ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় অনেক বেশি।
মনে রাখার মতো কিছু জরুরি পয়েন্ট:
তাড়াতাড়ি শুরু করুন: যত কম বয়সে বিনিয়োগ শুরু করবেন, কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা তত বেশি পাবেন।
ধৈর্য ধরুন: শেয়ার বাজারের ওঠানামায় ভয় না পেয়ে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য স্থির রাখুন।
সিস্টেমেটিক প্ল্যান: প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আপনার সামান্য সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের দিনগুলোকে করতে পারে সুরক্ষিত এবং রাজকীয়। তাই দেরি না করে আজই শুরু করুন আপনার বিনিয়োগের যাত্রা।





