বিমানে যাতায়াতের সময় জানালার ধারের সিট (Window Seat) বা সামনের সারির সিট বেছে নেওয়া অনেক যাত্রীরই শখ। কিন্তু এবার সেই শৌখিনতায় রাশ টানতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানযাত্রীদের সিট বণ্টন এবং অতিরিক্ত ফি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ২০২৬-এর এই নয়া নিয়মে ফ্লাইটের সিট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
কী থাকছে এই নতুন নির্দেশিকায়? কেন্দ্রীয় নির্দেশের মূল নির্যাস হলো— সিট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর একাধিপত্য কমানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া।
অতিরিক্ত চার্জে লাগাম: অনেক সময় দেখা যায়, পছন্দের সিট বাছতে গিয়ে যাত্রীদের টিকিটের দামের চেয়েও বেশি চার্জ দিতে হচ্ছে। কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে, সব সিটকে ‘পেইড সিট’ বা প্রিমিয়াম তকমা দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না।
র্যান্ডম অ্যালোকেশন (Random Allocation): যারা বাড়তি টাকা দিয়ে সিট বুক করবেন না, তাঁদের জন্য অটোমেটেড বা র্যান্ডম পদ্ধতিতে সিট বরাদ্দ করা হবে। সেখানে যাত্রীর পছন্দের কোনো জায়গা থাকবে না।
পরিবার ও শিশুদের অগ্রাধিকার: একই পিএনআর (PNR) নম্বরে টিকিট থাকলে পরিবার বা শিশুদের আলাদা আলাদা সিট দেওয়া যাবে না। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের তাঁদের অভিভাবকের পাশেই সিট দিতে হবে, এর জন্য কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া চলবে না।
কেন এই কড়াকড়ি? বিগত কয়েক মাসে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে যে, বিমান সংস্থাগুলো মুনাফা বাড়াতে সাধারণ সিটগুলোকেও ‘পছন্দের সিট’ বলে চড়া দামে বিক্রি করছে। এমনকি বয়স্ক বা শিশুদেরও আলাদা সিট দেওয়া হচ্ছিল যাতে তাঁরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সিট পরিবর্তন করেন। এই ‘অনৈতিক’ ব্যবসা রুখতেই কেন্দ্রের এই তৎপরতা।
যাত্রীদের ওপর প্রভাব: এই নিয়মের ফলে যারা কম খরচে বিমান ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের জন্য সুবিধা হবে। তবে যারা শেষ মুহূর্তে জানালার ধারের সিট আশা করেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ— কারণ এখন থেকে অধিকাংশ ‘ফ্রি সিট’ র্যান্ডমলি ডিস্ট্রিবিউট করা হবে।
কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থানের ফলে বিমান সংস্থাগুলো এখন আর সিট বিক্রির নামে নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ম চালাতে পারবে না। আকাশপথে যাতায়াত আরও স্বচ্ছ এবং যাত্রীবান্ধব করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে দিল্লি।





