ভারত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগর— সমুদ্রের নীল জলে ভারতের দাপট আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল ভারতীয় নৌবাহিনী। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল দেশ। গত মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ভারতীয় নৌসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে ৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এর ফলে শত্রুদেশের সাবমেরিন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান— সবকিছুর মোকাবিলায় ভারত এখন আরও বেশি শক্তিশালী।
সাত দিনে নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি: প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে দফায় দফায় এই যুদ্ধজাহাজগুলো নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে:
আইএনএস তারাগিরি (INS Taragiri): প্রজেক্ট ১৭এ-র অন্তর্গত এই স্টিলথ ফ্রিগেটটি আজ, ৩ এপ্রিল ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হলো। এটি রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং ব্রহ্মোস মিসাইলে সজ্জিত।
আইএনএস দুনগিরি (INS Dunagiri): এটিও একটি শক্তিশালী স্টিলথ ফ্রিগেট, যা গত কয়েক দিন আগেই নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আইএনএস অগ্রয় (INS Agray): সাবমেরিন ধ্বংসকারী এই যুদ্ধজাহাজটি অগভীর জলেও শত্রুর মোকাবিলা করতে পারদর্শী।
আইএনএস সংশোধক (INS Sanshodhak): এটি একটি বৃহৎ সার্ভে ভেসেল (SVL), যা সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি এবং রণকৌশলগত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে।
কেন এই সংযোজন এত গুরুত্বপূর্ণ? ১. চীন ও পাকিস্তানের মোকাবিলা: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে টেক্কা দিতে এই আধুনিক ফ্রিগেট ও সাবমেরিন হান্টারগুলো ভারতের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে। ২. মেক ইন ইন্ডিয়া: এই প্রতিটি জাহাজই ভারতে তৈরি। অর্থাৎ, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত এখন নিজেই নিজের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে বিশ্বসেরা হয়ে উঠছে। ৩. অপারেশনাল রেডিনেস: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের এই ‘নীরব শক্তি’ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বার্তা: নৌবাহিনী জানিয়েছে, ২০২৬ সালটি ভারতের নৌ-ইতিহাসে একটি ‘রেকর্ড বছর’ হতে চলেছে। এই বছরেই সব মিলিয়ে ১৯টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নৌবাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সাত দিনে চারটি জাহাজের অন্তর্ভুক্তি সেই লক্ষ্যপূরণেরই এক বড় ধাপ।
সমুদ্রে ভারতের এই ক্রমবর্ধমান শক্তি কেবল দেশের সুরক্ষাই নিশ্চিত করছে না, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতকে একটি শক্তিশালী ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।





