আম আদমি পার্টির (AAP) অন্দরে এখন গৃহযুদ্ধ চরমে। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই রাজধানীর রাজনীতি উত্তাল। কিন্তু জানেন কি, যে নেতার কথা সরকারও মন দিয়ে শুনত, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কতটা? কেনই বা অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের খুঁটিনাটি সমস্যা নিয়ে এত সাবলীল তিনি?
দিল্লি থেকে লন্ডন-হার্ভার্ড: রাঘবের পড়াশোনার সফর ১৯৮৮ সালে দিল্লিতে জন্ম রাঘব চাড্ডার। পড়াশোনা শুরু দিল্লির নামী মডার্ন স্কুলে। এরপর তাঁর সাফল্যের খতিয়ান একনজরে:
বাণিজ্যে স্নাতক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্সে গ্র্যাজুয়েশন।
মাত্র ২২ বছরেই সিএ: ভারতের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে Institute of Chartered Accountants of India থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) ডিগ্রি লাভ করেন।
বিদেশি ডিগ্রি: উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি দেন বিদেশে। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস (LSE) এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন তিনি।
রাজনীতির আগে পেশাদার জীবন: রাজনীতিতে আসার আগে রাঘব একজন সফল প্রফেশনাল ছিলেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার পর বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং ফার্মে ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে সংসদে বাজেট বা অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করে।
সংসদে কেন জনপ্রিয় ছিলেন রাঘব? ২০২২ সালে পঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় যাওয়ার পর খুব দ্রুত নজর কাড়েন রাঘব। এয়ারপোর্টে চা-সিঙাড়ার চড়া দাম, গিগ ওয়ার্কার বা ডেলিভারি বয়দের সমস্যা কিংবা টেলিকম কোম্পানির ডেটা লিমিট— সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পকেটে টান পড়া বিষয়গুলো নিয়ে সরব হয়েই তিনি ‘জনপ্রিয়’ হয়ে ওঠেন।
দলের সঙ্গে সংঘাতের নেপথ্যে কী? ৩৭ বছর বয়সী এই নেতার প্রোফাইল যতটাই শক্তিশালী, বর্তমান পরিস্থিতি ততটাই টালমাটাল। আপ নেতৃত্বের দাবি, সংসদে দলের জন্য বরাদ্দ সময় খুবই সীমিত। সেখানে জাতীয় ইস্যু ছেড়ে ‘সিঙাড়া’র দাম বা ছোটখাটো বিষয়ে সময় নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়। রাঘবের জায়গায় এখন অশোক মিত্তলকে ডেপুটি লিডার করেছে দল, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ভিডিও যুদ্ধ।
এডিটরস নোট: উচ্চশিক্ষিত রাঘব চাড্ডা কি তাঁর পেশাদার বুদ্ধি দিয়ে এই রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন? না কি আম আদমি পার্টির সঙ্গে তাঁর এই বিচ্ছেদ দীর্ঘস্থায়ী হবে? উত্তর দেবে সময়।





