“ভোট আসে ভোট যায়, আমাদের কপাল ফেরে না!” চা-শ্রমিকদের চোখের জলে ভিজছে ডুয়ার্স, এবার কী বদলাবে দিন?

সকাল হলেই সারা দেশের পেয়ালায় সুগন্ধী চায়ের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে যাঁদের হাতের ছোঁয়ায়, উত্তরবঙ্গের সেই চা-শ্রমিকদের জীবন আজও তিতকুটে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ছে দুয়ারে, কিন্তু ডুয়ার্স থেকে তরাই— চা-বাগানের লাইনগুলোতে কান পাতলে আজও শোনা যায় বঞ্চনা আর অভাবের দীর্ঘশ্বাস। ভোটের ডামাডোলে রাজনৈতিক দলগুলো ‘সুদিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও, চা-শ্রমিকদের কাছে তা কেবলই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি।

মজুরি সমস্যা ও যন্ত্রণার আখ্যান: চা-বলয়ের প্রধান সমস্যা হলো ন্যূনতম মজুরি। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও আজও শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে গিয়ে সাংবাদিক অভিজিৎ বোস তুলে ধরেছেন এক করুণ চিত্র:

  • ন্যূনতম মজুরির অভাব: সরকারি স্তরে মজুরি বাড়লেও তা আকাশছোঁয়া বাজারের তুলনায় নগণ্য। চা-শ্রমিকদের দাবি, পরিবার নিয়ে দু-বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্য এই টাকা যথেষ্ট নয়।

  • পিএফ ও গ্র্যাচুইটি: বহু বাগানে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং গ্র্যাচুইটির টাকা বকেয়া পড়ে আছে। অবসরের পর প্রাপ্য সম্মানটুকুও পাচ্ছেন না বয়স্ক শ্রমিকরা।

  • স্বাস্থ্য ও বাসস্থান: বাগানগুলোর স্বাস্থ্য পরিষেবা তথৈবচ। ভাঙাচোরা ঘর আর পানীয় জলের অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

ভোটের সমীকরণ ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা: উত্তরবঙ্গের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভা আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন এই চা-শ্রমিকরাই। তাই প্রত্যেক নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো চা-বাগানে ভিড় জমায়। কেউ দেয় পাট্টা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, কেউ দেয় মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই ‘দুধে-ভাতে’ থাকার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসে।

শ্রমিকদের কথা: বাগানের এক বয়স্ক নারী শ্রমিকের কথায়, “আমাদের ঘাম ঝরানো চায়ে বাবুদের আড্ডা জমে, কিন্তু আমাদের উনুনে হাঁড়ি চড়ে না। এবার আমরা নাম দেখে নয়, কাজ দেখে ভোট দেব।”

ভোটের উত্তাপে চা-বলয় এখন তপ্ত। বড় বড় ফ্লেক্স আর মাইকের প্রচারে ঢাকছে শ্রমিকদের হাহাকার। ২০২৬-এর নির্বাচনে এই অবহেলিত কারিগরদের মন জয় করতে পারবে কোন দল? নাকি সেই পুরনো চিত্রনাট্যেই শেষ হবে তাঁদের জীবন-সংগ্রাম? উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy