২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় বিদ্ধ হতে চলেছেন রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার সরাসরি মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষ-কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সিজিও কমপ্লেক্সে নির্দিষ্ট দিনে তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: পুরসভা নিয়োগ-দুর্নীতি মামলার শেকড় অনেক গভীরে। ইডি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এই তদন্তেই নাম জড়িয়েছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুজিত বসুর বাড়ি ও দফতরে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে।
তদন্তকারীদের নজরে যা রয়েছে: তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দুই মন্ত্রীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চায় ইডি। মূলত আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতেই এই তলব।
ভোটের মুখে রাজনৈতিক চাপানউতোর: নির্বাচনের ঠিক আগেই এই জোড়া তলব নিয়ে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ২০২৬-এর আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং নেতাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের পালটা দাবি, “চুরি করলে জেল খাটতেই হবে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।”





