ভারতীয় নৌসেনার মুকুটে আজ যুক্ত হচ্ছে এক নতুন পালক। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি সাঙ্কেতিক পোস্টে লিখেছে, “শব্দ নয়, শক্তি— ‘অরিধমন’!” (It’s not just a word, it’s a symbol of power. ‘Aridhaman’!)। সূত্রের খবর, আজই বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে দেশের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) ‘আইএনএস অরিধমন’-এর আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি ঘটতে চলেছে।
‘অরিধমন’-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা:
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সাবমেরিনটি আগের দুটি সংস্করণের (অরিহন্ত ও অরিঘাত) তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
বিশাল আকৃতি: প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের এই সাবমেরিনটি লম্বায় ১৩০ মিটার।
মিসাইল ভাণ্ডার: এতে রয়েছে ৮টি ভার্টিকাল লঞ্চ টিউব, যা অরিহন্তের তুলনায় দ্বিগুণ। এটি ৩,৫০০ কিমি পাল্লার ৮টি কে-৪ (K-4) মিসাইল অথবা ৭৫০ কিমি পাল্লার ২৪টি কে-১৫ (K-15) মিসাইল বহন করতে সক্ষম।
অদৃশ্য ঘাতক: এটি ৮৩ মেগাওয়াটের আপগ্রেডেড প্রেশারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর দ্বারা চালিত এবং এর বিশেষ নকশা শত্রুর রাডার ও সোনারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
নৌসেনায় ‘তারাগিরি’-র অভিষেক:
এদিন শুধুমাত্র সাবমেরিন নয়, রাজনাথ সিং নৌসেনার হাতে তুলে দেবেন অত্যাধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’। প্রজেক্ট ১৭এ-র চতুর্থ এই যুদ্ধজাহাজটি ৬৬৭০ টন ওজনের এক দানবীয় রণতরী। ৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদানে তৈরি এই জাহাজটি সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল ও উন্নত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার স্যুটে সজ্জিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিধমন নৌসেনায় যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা পারমাণবিক হামলার মুখে পাল্টা প্রত্যাঘাত হানার ক্ষমতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছল।





