আশীর্বাদের নামে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত! জেলের ঘানিতে স্বঘোষিত সাধু অশোক খরাত

একবিংশ শতাব্দীতেও অন্ধবিশ্বাসের অন্ধকার কতটা গভীর, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল নাসিকের স্বঘোষিত ‘বাবা’ অশোক খরাতের ঘটনা। আধ্যাত্মিকতার দোহাই দিয়ে মহিলাদের ওপর চরম যৌন নিগ্রহ, ধর্ষণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে আপাতত শ্রীঘরে এই ভণ্ড সাধু। তদন্ত শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে ৫০টিরও বেশি ফোন এসেছে, যেখানে ভুক্তভোগী মহিলারা খরাতের লালসার শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

দিল্লির ‘নীরু’ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত ‘দীপিকা’— প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাই শিউরে ওঠার মতো। অসুস্থতা বা পারিবারিক সমস্যা মেটানোর নাম করে নিভৃত ঘরে নিয়ে গিয়ে চলত শ্লীলতাহানি। অনেক ক্ষেত্রে সম্মোহন এবং ভয়ের চোটে মহিলারা প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। এমনকি খরাতের বিরুদ্ধে জোর করে গর্ভপাত করানো এবং খুনের হুমকি দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও উঠেছে। পুণে ও শিরডির ব্যবসায়ীদের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলাও ঝুলছে তার ঘাড়ে।

বুধবার নাসিক আদালত খরাতকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাকে অন্য একটি যৌন নিগ্রহের মামলায় ফের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে খরাতের স্ত্রী কল্পনা এবং সহযোগী অশোক তাম্বে পলাতক, যাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। বিজ্ঞানের যুগেও মানুষের প্রশ্নহীন আনুগত্যই এই ধরনের অপরাধীদের শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা সমাজের এক কদর্য দিককে প্রতিফলিত করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy