নবান্নের মাস্টারস্ট্রোক! বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিরাট ছাড়ের ঘোষণা, কারা পাবেন এই সুবিধা?

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের নানুর থেকে কৃষকদের জন্য এক বিশাল উপহার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নানুরের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে বাংলার কৃষকদের কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের জন্য আর কোনও টাকা গুনতে হবে না। ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের অধীনে থাকা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষক এই পরিষেবায় সরাসরি ১০০ শতাংশ ছাড় পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, কৃষকদের আর্থিক বোঝা লাঘব করতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “চাষিরা আমাদের অন্নদাতা। রোদে পুড়ে, জলে ভিজে তাঁরা ফসল ফলান। তাই তাঁদের সেচের কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পুরো খরচ এখন থেকে রাজ্য সরকার বহন করবে।” এতদিন কৃষি কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের একটি নির্দিষ্ট অংশ বা নামমাত্র ফি দিতে হতো। কিন্তু মমতার এই নতুন ঘোষণার ফলে কৃষকদের সেই দুশ্চিন্তাও দূর হতে চলেছে। মূলত যারা পাম্প চালিয়ে চাষের জমিতে জল দেন, তাঁরাই এই প্রকল্পের প্রধান সুবিধাভোগী হতে চলেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে নানুরের মাটি থেকে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা, ঠিক তখনই রাজ্যের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন করে জনমোহিনী বার্তা দিলেন তিনি। বিরোধীরা একে নির্বাচনী চমক বললেও, বীরভূমের এই সভা থেকে মমতা বুঝিয়ে দিলেন যে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ‘কৃষক দরদী’ ভাবমূর্তিই তাঁর বড় হাতিয়ার। এর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবশ্রী প্রকল্পে অর্থ বৃদ্ধি করার পর, বিদ্যুতে এই ছাড় বাংলার কৃষি অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy