যে নালন্দা একসময় সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছিল, সেই পুণ্যভূমিতেই এবার নেমে এল অন্ধকারের কালো ছায়া। প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যমণ্ডিত নালন্দায় এক গৃহবধূকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, যখন এক নারী আর্তনাদ করছিলেন এবং নিজের সম্ভ্রম বাঁচানোর লড়াই চালাচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত জনতা সাহায্যের হাত বাড়ানোর বদলে স্রেফ ‘তামাশা’ দেখল।
ঘটনাটি বিহারের নালন্দা জেলার একটি ব্যস্ত এলাকার। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই গৃহবধূ যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মদ্যপ অবস্থায় একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। এরপর জনসমক্ষেই তাঁর ওপর চড়াও হয় তারা। পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) দেখা গিয়েছে, পাশ দিয়ে মানুষ যাতায়াত করলেও কেউ বাধা দেওয়ার সাহস দেখাননি। সভ্য সমাজের এই অমানবিক ও নির্লিপ্ত মুখ দেখে স্তম্ভিত গোটা দেশ।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নালন্দা পুলিশ তদন্তে নেমেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে নালন্দা আজও গর্বের কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু এই বর্বরোচিত ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা সামনে এনে দিল। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ঐতিহাসিক এই শহরে নারীরা যদি প্রকাশ্য রাস্তায় নিরাপদ না হন, তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা নারী সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি কি কেবলই স্লোগান? ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন নারী সংগঠন।





