দেশের অর্থনীতিতে বসন্তের ছোঁয়া! ২০২৬ অর্থবর্ষের শেষ মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) সংগ্রহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল কেন্দ্র। বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে মোট জিএসটি আদায় ২ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে ২.১০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা গত বছরের (২০২৫ সালের মার্চ) ১.৮৩ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৮.৮ শতাংশ বেশি। গত ১০ মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
আর্থিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ অর্থবর্ষে মোট জিএসটি আদায় ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২.২৭ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এই বিপুল সাফল্যের মাঝেও রাজ্যওয়ারী পরিসংখ্যানে কিছুটা বৈচিত্র্য দেখা গিয়েছে। মহারাষ্ট্র ১৭ শতাংশ, কর্ণাটক ১৪ শতাংশ এবং তেলেঙ্গানা ১৯ শতাংশ হারে অভাবনীয় বৃদ্ধি নথিভুক্ত করলেও পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। বাংলার ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার মাত্র ৩ শতাংশে থমকে রয়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক (IGST) ১৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াই এই রেকর্ড সংগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। যেখানে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ২.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা আদায় হয়ে সর্বকালের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চের এই পরিসংখ্যান দেশের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যের দিকে এক বড় পদক্ষেপ। তবে পশ্চিমবঙ্গের মতো শিল্পপ্রধান রাজ্যে জিএসটি সংগ্রহের ধীরগতি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।





