২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ঝুঁকি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে পুঞ্জীভূত অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া রুখতে এক ধাক্কায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই সাহসী পদক্ষেপই কি এখন দলের জন্য বুমেরাং হতে চলেছে? টিকিট না পেয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বঞ্চিত বিধায়ক ও তাঁদের অনুগামীরা। বিশেষ করে ৫ জন ‘বিদ্রোহী’ হেভিওয়েট নেতার ভূমিকা নিয়ে ঘুম উড়েছে কালীঘাটের।
এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি ইতিমধ্যেই ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট বেঁধে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। জল্পনা তুঙ্গে যে তিনি নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-এ যোগ দিতে পারেন। এছাড়া আমডাঙার রফিকার রহমান থেকে শুরু করে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নির্দল হিসেবে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহীরা যদি তৃণমূলের সংখ্যালঘু বা গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসান, তবে বহু আসনেই ঘাসফুল শিবিরের জয় কঠিন হয়ে পড়বে। দলের এই অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে সুবিধা করে দেবে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তুঙ্গে।





