২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর এরই মাঝে নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক (বর্তমানে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) হুমায়ুন কবীরের সাক্ষাৎ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জল্পনা ছড়িয়েছিল, তবে কি তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী তৃতীয় এক শক্তিশালী ফ্রন্ট তৈরি হতে চলেছে? সেই জল্পনা উসকে দিয়ে অবশেষে এই বৈঠকের নেপথ্য কারণ খোলসা করলেন স্বয়ং সেলিম।
যাদবপুরের একটি মিছিল চলাকালীন সেলিম জানতে পারেন যে, হুমায়ুন কবীর তার সঙ্গে দেখা করতে চান। সেলিমের কথায়, “ও যেখানে অবস্থান করছিল সেদিন, সেখানেই গিয়েছিলাম। আমি তখন যাদবপুরে একটা মিছিলে ছিলাম। সেখান থেকে শুনলাম, সে এসেছে এবং আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।” উল্লেখ্য, ২৯ জানুয়ারি একটি জনসভা করার পরিকল্পনা ছিল হুমায়ুনের, যেখানে তিনি সমস্ত বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি সেলিমের সঙ্গে দেখা করতে মুখিয়ে ছিলেন।
সেলিম আরও জানান, তিনি সৌজন্যের খাতিরেই সেখানে গিয়েছিলেন। তার সোজাসাপ্টা মন্তব্য, “আমি বললাম, আমার কাছে আসার দরকার নেই। আমি নিজেই যেতে পারি।” অর্থাৎ, জোট বা রাজনৈতিক সমীকরণ যাই হোক না কেন, আলোচনার পথ যে খোলা রয়েছে, সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন বাম নেতা। তবে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক এবং মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে হুমায়ুন কবীর এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাই সেলিমের এই ‘সাক্ষাৎ’ নিছক সৌজন্য না কি আগামীর বড় কোনো জোটের সলতে পাকানো, তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।