সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া পাহারা! স্বাধীন ক্রিয়েটরদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা? মোদী সরকারের নয়া পদক্ষেপে রণক্ষেত্র নেটদুনিয়া

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এবার কি তবে ফিকে হতে চলেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা? কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নই এখন দানা বাঁধছে সমাজমাধ্যমের আনাচে-কানাচে। মঙ্গলবার তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং স্বাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একগুচ্ছ কড়া নিয়মাবলি জারি করা হয়েছে। আর এই পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমালোচকদের দাবি, সরকারের এই অতি-নজরদারি আসলে স্বাধীনচেতা ইউটিউবার, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের মুখ বন্ধ করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।

নতুন এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় যেকোনো ‘আপত্তিকর’ পোস্ট বা ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। এমনকি, কোনো ক্রিয়েটর যদি সরকারের নীতি নিয়ে ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচার করেন, তবে তাঁর অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার সংস্থানও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সেই সব ক্রিয়েটরদের ওপর নজর রাখা হবে যাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা ৫ লক্ষের বেশি।

ডিজিটাল অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলির মতে, ‘আপত্তিকর’ শব্দটির সংজ্ঞা ধোঁয়াশাপূর্ণ হওয়ায় এর অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিয়েটরদের মধ্যে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ তৈরি হবে, যা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্যদিকে, সরকারের যুক্তি হলো— ভুয়ো খবর (Fake News) এবং ডিপফেক (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতেই এই কড়াকড়ি। তবে নেটিজেনদের একাংশের মতে, স্বচ্ছতার আড়ালে আসলে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা চলছে। এখন দেখার, এই আইনি লড়াই আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy